• মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

ইউনুস সরকার– না সাংবিধানিক, না বিপ্লবী

ইউনুস সরকার– না সাংবিধানিক, না বিপ্লবী

  আন্দোলন প্রতিবেদন  

বুধবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৪  |  অনলাইন সংস্করণ

হাসিনার পতনের পর গঠিত “অন্তর্বর্তীকালীন সরকার” হাসিনার সংবিধানের অধীনেই শপথ নিয়েছে এবং সংবিধানকে রক্ষা করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে। চার মাস পরেও হাসিনার নিযুক্ত রাষ্ট্রপতিই বহাল রয়েছে। তাই একে সাংবিধানিক সরকার বলে দাবি করার কিছু যুক্তি রয়েছে।

কিন্তু প্রচলিত সংবিধানে হাসিনা সরকার বেশ কায়দা করেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রথা বাতিল করেছিল। সুতরাং এমন একটি সরকার গঠন যে পরিষ্কারভাবেই সংবিধান বিরোধী তা বুঝতে কোনো সংবিধান-বিশেষজ্ঞ হবার প্রয়োজন পড়ে না।

বুর্জোয়া বিশেষজ্ঞরা অবশ্য কেউ কেউ এমন যুক্তি দিতে চেষ্টা করেন যে, “জনগণের অভিপ্রায়” সবকিছুর ঊর্ধ্বে, যা এ সংবিধান বলেছে। কিন্তু সংবিধানের প্রথমেই স্পষ্ট করা হয়েছে যে, জনগণের সার্বভৌমত্ব কাজ করবে সংবিধানের নিয়ম-নীতির মধ্যেই। তাহলে কী দাঁড়ালো?

জনগণের অভিপ্রায়টা কী ছিল? হাসিনার উচ্ছেদ। কিন্তু তারপর কে ক্ষমতায় আসবে সেটা কি ছিল কোথাও? অথবা বৈষম্য-আন্দোলনে কোনো আর্থ-সামাজিক কর্মসূচি কি ছিল, যার জন্য জনগণ আন্দোলন করেছিলেন? ছিল না। বড় জোর এটা হতে পারে যে, যে-জনগণ অভ্যুত্থান ঘটিয়েছেন তাদের বিভিন্ন শ্রেণি, পেশা, রাজনৈতিক শক্তির প্রতিনিধিরা সরকার গঠন করবে। কিন্তু সেটা কি সংবিধান সম্মত হতো, যদিই বা তেমনটা গঠিত হতো? না, হতো না।

এই ডেলিমায় পড়ে এখন ক্ষমতাসীনদের সহযোগী অনেকেই বলছেন যে, না, এটা-তো বিপ্লব, তাই সরকারটি হলো বিপ্লবী সরকার। তাহলে আবার প্রশ্ন ওঠে, এ সরকারের শপথের কী হবে? এ অবস্থায় চতুর একটি অংশ বলতে চাচ্ছে যে, ঐ শপথটা ভুল ছিল, মুজিবের ছবি টাঙিয়ে রাখা ভুল ছিল। মুজিব জাতির পিতা নয়।Ñ ইত্যাদি। এগুলো তো আরো বেশি করে সংবিধান বিরোধী।

তাই, কেউ কেউ মনে করছে, একে বিপ্লব বললেই ল্যাঠা চুকে যায়। যায় কি? তাহলে তো এই সংবিধান রাখা যায় না। পৃথিবীর কোনো বিপ্লবেই তো পুরানো সংবিধান, আইন-কানুন, আমলাতন্ত্র, রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র বাহিনীগুলো রেখে দেয়া হয় না।

বিপ্লব-ওয়ালারা এখন ওসব কিছুর কথাও বলছে। বলছে নতুন সংবিধান লিখতে হবে। লিখলেই কি তাদের সরকার বিপ্লবী হয়ে যাবে? পৃথিবীর কে কোথায় শুনেছে যে, দুনিয়ার মানুষের এক নম্বর শত্রু মার্কিন সাম্রাজ্যবাদীদের সাবেক বা বর্তমান প্রেসিডেন্টদের একান্ত বন্ধু একটি বিপ্লবী সরকার গঠন করেছে এবং এখন একটি বিপ্লবে নেতৃত্ব দিচ্ছে? এই কথিত বিপ্লবে ড.ইউনুসের কী ভূমিকা ছিল তার ব্যাখ্যা কী? তিনি নিজ মুখে বলেছেন, আন্দোলনকারীদের তিনি চিনতেনই না। 

বিপ্লবের কোন কাজটা এ সরকার ও তার সহযোগীরা এখন পর্যন্ত করেছে? সংবিধান বহাল (হয়তো উদ্দেশ্য হাসিল হবার পর তার সংস্কার করা হবে বা তাকে স্থগিত করা হবে), হাসিনার প্রেসিডেন্টও বহাল (হয়তো হাসিনার আপনজন বলে তাকে কাজ শেষে ছুঁড়ে ফেলা হবে), রাষ্ট্রীয় বাহিনীগুলো বহাল (কিছু কিছু অফিসারকে সরাতেই হয়েছে, নতুবা এই সরকারই টিকবে না), সেনাপতিরা মূলত বহাল, আগের বিচার-ব্যবস্থা বহাল, আগের আমলাতন্ত্র বহাল, বিশেষত বড় বড় বুর্জোয়ারা বহাল, বড় বড় ভূস্বামীরা বহাল, আধা-সামন্ততান্ত্রিক সমস্ত শোষণ-অত্যাচার চলছেই, ধর্মবাদী ফ্যাসিবাদীরা বহাল– আর কী? বাদ শুধু হাসিনা, তার সংসদ ও তার দলটি। এ সরকার সাম্রাজ্যবাদ-সম্প্রসারণবাদের সাথে প্রায় সকল সম্পর্কই পূর্বের মতোই বজায় রেখেছে। সর্বোপরি শ্রমিক, কৃষক, শ্রমজীবী দরিদ্র মানুষের পক্ষে তাদের মৌলিক কোনো কর্মসূচিও কি রয়েছে? নেই। একে কি কোনো বিচার-বুদ্ধি সম্পন্ন মানুষ বিপ্লব বলতে পারে? রাষ্ট্রবিজ্ঞানে একান্ত মূর্খ অথবা ধুর্ত চালবাজরাই সেটা বলবে।

তাহলে এ সরকারটি কী? সাংবিধানিকও না, বিপ্লবীও না। তাহলে কী তার চরিত্র? মনে হয় এ বিষয়েও পণ্ডিত হবার প্রয়োজন নেই। শাসকশ্রেণির কোন অংশটি সাংবিধানিকও নয়, বিপ্লবীও নয়, তার বহু দৃষ্টান্ত ইতিহাসে রয়েছে। ২০০৭ সালে আমাদের দেশেও একবার আমরা দেখেছি। তবে তারা অনেকেই সংবিধানটিকে স্থগিত করে দিয়ে ক্ষমতা হাতে নেয়। এরা সেটাই করবে কিনা তা আগামীতে দেখা যাবে। তবে গণ-অভ্যুত্থানটি জনগণের মাঝে বুর্জোয়া অর্থে হলেও একটি গণতন্ত্রের আকাঙ্ক্ষা সৃষ্টি করেছে। সেটা উপেক্ষা করা কঠিন।

ইউনুস সরকার– না সাংবিধানিক, না বিপ্লবী

 আন্দোলন প্রতিবেদন 
বুধবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৪  |  অনলাইন সংস্করণ

হাসিনার পতনের পর গঠিত “অন্তর্বর্তীকালীন সরকার” হাসিনার সংবিধানের অধীনেই শপথ নিয়েছে এবং সংবিধানকে রক্ষা করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে। চার মাস পরেও হাসিনার নিযুক্ত রাষ্ট্রপতিই বহাল রয়েছে। তাই একে সাংবিধানিক সরকার বলে দাবি করার কিছু যুক্তি রয়েছে।

কিন্তু প্রচলিত সংবিধানে হাসিনা সরকার বেশ কায়দা করেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রথা বাতিল করেছিল। সুতরাং এমন একটি সরকার গঠন যে পরিষ্কারভাবেই সংবিধান বিরোধী তা বুঝতে কোনো সংবিধান-বিশেষজ্ঞ হবার প্রয়োজন পড়ে না।

বুর্জোয়া বিশেষজ্ঞরা অবশ্য কেউ কেউ এমন যুক্তি দিতে চেষ্টা করেন যে, “জনগণের অভিপ্রায়” সবকিছুর ঊর্ধ্বে, যা এ সংবিধান বলেছে। কিন্তু সংবিধানের প্রথমেই স্পষ্ট করা হয়েছে যে, জনগণের সার্বভৌমত্ব কাজ করবে সংবিধানের নিয়ম-নীতির মধ্যেই। তাহলে কী দাঁড়ালো?

জনগণের অভিপ্রায়টা কী ছিল? হাসিনার উচ্ছেদ। কিন্তু তারপর কে ক্ষমতায় আসবে সেটা কি ছিল কোথাও? অথবা বৈষম্য-আন্দোলনে কোনো আর্থ-সামাজিক কর্মসূচি কি ছিল, যার জন্য জনগণ আন্দোলন করেছিলেন? ছিল না। বড় জোর এটা হতে পারে যে, যে-জনগণ অভ্যুত্থান ঘটিয়েছেন তাদের বিভিন্ন শ্রেণি, পেশা, রাজনৈতিক শক্তির প্রতিনিধিরা সরকার গঠন করবে। কিন্তু সেটা কি সংবিধান সম্মত হতো, যদিই বা তেমনটা গঠিত হতো? না, হতো না।

এই ডেলিমায় পড়ে এখন ক্ষমতাসীনদের সহযোগী অনেকেই বলছেন যে, না, এটা-তো বিপ্লব, তাই সরকারটি হলো বিপ্লবী সরকার। তাহলে আবার প্রশ্ন ওঠে, এ সরকারের শপথের কী হবে? এ অবস্থায় চতুর একটি অংশ বলতে চাচ্ছে যে, ঐ শপথটা ভুল ছিল, মুজিবের ছবি টাঙিয়ে রাখা ভুল ছিল। মুজিব জাতির পিতা নয়।Ñ ইত্যাদি। এগুলো তো আরো বেশি করে সংবিধান বিরোধী।

তাই, কেউ কেউ মনে করছে, একে বিপ্লব বললেই ল্যাঠা চুকে যায়। যায় কি? তাহলে তো এই সংবিধান রাখা যায় না। পৃথিবীর কোনো বিপ্লবেই তো পুরানো সংবিধান, আইন-কানুন, আমলাতন্ত্র, রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র বাহিনীগুলো রেখে দেয়া হয় না।

বিপ্লব-ওয়ালারা এখন ওসব কিছুর কথাও বলছে। বলছে নতুন সংবিধান লিখতে হবে। লিখলেই কি তাদের সরকার বিপ্লবী হয়ে যাবে? পৃথিবীর কে কোথায় শুনেছে যে, দুনিয়ার মানুষের এক নম্বর শত্রু মার্কিন সাম্রাজ্যবাদীদের সাবেক বা বর্তমান প্রেসিডেন্টদের একান্ত বন্ধু একটি বিপ্লবী সরকার গঠন করেছে এবং এখন একটি বিপ্লবে নেতৃত্ব দিচ্ছে? এই কথিত বিপ্লবে ড.ইউনুসের কী ভূমিকা ছিল তার ব্যাখ্যা কী? তিনি নিজ মুখে বলেছেন, আন্দোলনকারীদের তিনি চিনতেনই না। 

বিপ্লবের কোন কাজটা এ সরকার ও তার সহযোগীরা এখন পর্যন্ত করেছে? সংবিধান বহাল (হয়তো উদ্দেশ্য হাসিল হবার পর তার সংস্কার করা হবে বা তাকে স্থগিত করা হবে), হাসিনার প্রেসিডেন্টও বহাল (হয়তো হাসিনার আপনজন বলে তাকে কাজ শেষে ছুঁড়ে ফেলা হবে), রাষ্ট্রীয় বাহিনীগুলো বহাল (কিছু কিছু অফিসারকে সরাতেই হয়েছে, নতুবা এই সরকারই টিকবে না), সেনাপতিরা মূলত বহাল, আগের বিচার-ব্যবস্থা বহাল, আগের আমলাতন্ত্র বহাল, বিশেষত বড় বড় বুর্জোয়ারা বহাল, বড় বড় ভূস্বামীরা বহাল, আধা-সামন্ততান্ত্রিক সমস্ত শোষণ-অত্যাচার চলছেই, ধর্মবাদী ফ্যাসিবাদীরা বহাল– আর কী? বাদ শুধু হাসিনা, তার সংসদ ও তার দলটি। এ সরকার সাম্রাজ্যবাদ-সম্প্রসারণবাদের সাথে প্রায় সকল সম্পর্কই পূর্বের মতোই বজায় রেখেছে। সর্বোপরি শ্রমিক, কৃষক, শ্রমজীবী দরিদ্র মানুষের পক্ষে তাদের মৌলিক কোনো কর্মসূচিও কি রয়েছে? নেই। একে কি কোনো বিচার-বুদ্ধি সম্পন্ন মানুষ বিপ্লব বলতে পারে? রাষ্ট্রবিজ্ঞানে একান্ত মূর্খ অথবা ধুর্ত চালবাজরাই সেটা বলবে।

তাহলে এ সরকারটি কী? সাংবিধানিকও না, বিপ্লবীও না। তাহলে কী তার চরিত্র? মনে হয় এ বিষয়েও পণ্ডিত হবার প্রয়োজন নেই। শাসকশ্রেণির কোন অংশটি সাংবিধানিকও নয়, বিপ্লবীও নয়, তার বহু দৃষ্টান্ত ইতিহাসে রয়েছে। ২০০৭ সালে আমাদের দেশেও একবার আমরা দেখেছি। তবে তারা অনেকেই সংবিধানটিকে স্থগিত করে দিয়ে ক্ষমতা হাতে নেয়। এরা সেটাই করবে কিনা তা আগামীতে দেখা যাবে। তবে গণ-অভ্যুত্থানটি জনগণের মাঝে বুর্জোয়া অর্থে হলেও একটি গণতন্ত্রের আকাঙ্ক্ষা সৃষ্টি করেছে। সেটা উপেক্ষা করা কঠিন।

আরও খবর
 
শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র